আসসালামু আলাইকুম
আব্দুর রহমান আল হাসান
মুসলিম, তালিবুল ইলম
যে ব্যক্তি নিজের আমলের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, ইলম তার হৃদয়কে কোমল করে দেয়। আর যে ব্যক্তি মুদাররিস বা টাইটেল ব্যবহারের জন্য কিংবা দাম্ভিকতা প্রদর্শন ও অন্যকে হেয় করার জন্য ইলম অর্জন করে, সে নিজেই নিজেকে ধোঁকা দেয়। তার এই অহমিকা তাকে ধ্বংস করে দেয়
আব্দুর রহমান আল হাসান
মুসলিম, তালিবুল ইলম
যে ব্যক্তি নিজের আমলের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, ইলম তার হৃদয়কে কোমল করে দেয়। আর যে ব্যক্তি মুদাররিস বা টাইটেল ব্যবহারের জন্য কিংবা দাম্ভিকতা প্রদর্শন ও অন্যকে হেয় করার জন্য ইলম অর্জন করে, সে নিজেই নিজেকে ধোঁকা দেয়। তার এই অহমিকা তাকে ধ্বংস করে দেয়।
নারীবাদী তত্ত্ব থেকে নাস্তিক
নারীবাদীরা সর্বদা তাদের নারীবাদী তত্ত্ব থেকে ইসলামকে যাছাই করতে যায়। তখনই শুরু হয় বিরাট এক সমস্যা। ইসলামের সাথে নারীবাদের দ্বন্দ্ব বহু আগ থেকেই। কারণ, ইসলাম মানে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ। আর নারীবাদ বলে ভোগবাদীর উপর আত্মসমর্পণ। এজন্য মুসলিম নারীবাদীরা একটা সময় ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে নাস্তিক হয়ে যায়। আর এই জিনিষটা
মুসলিমবিশ্বে জাতীয়তাবাদের প্রভাব
মুসলিমবিশ্বে জাতীয়তাবাদের প্রভাব – ১৫০ বছর আগে মুসলিমবিশ্বের অবস্থার দিকে অবলোকন করতে আমরা দেখতে পাই, এক নিভুনিভু খিলাফতের ছায়ায় এই উম্মাহ একত্রিত হয়ে বসবাস করছে। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া নেই, পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যা নেই। পরবর্তীতে এমন কী হলো যে, খিলাফত পতনের পর এর থেকে প্রায় অর্ধশত রাষ্ট্রের জন্ম হলো? মুসলিমবিশ্বের শৌর্যবীর্য
খাত্তাব ইবনে নুফায়েল
হযরত ওমর রা. এর পিতা খাত্তাব ইবনে নুফায়েল ছিলেন আরবের অন্যতম বাগ্মী ব্যক্তি। তিনি ওকাজ মেলায় কুরাইশদের দূত হিসেবে নিযুক্ত হতেন। নেতৃত্বের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন অনন্য যোগ্যতার অধিকারী। মানুষ তার কথা শুনতে পছন্দ করতো। তিনি কুটনৈতিক জ্ঞানে দক্ষ ছিলেন। খাত্তাব ইবনে নুফায়েল এর জন্ম হযরত ওমর রা. এর পিতা
রোমান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ
রোমান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ – ইতিহাসের বিখ্যাত রোমান সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ছিল হাজার বছরের বেশি সময় ধরে কিন্ত এরপরও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে নি এই সাম্রাজ্য, সাম্রাজ্যের পতনের বিভিন্ন কারণের মধ্যে আমরা মূল মূল কারণগুলো এখানে তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ ও ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে খৃস্টধর্মের অবস্থা হযরত ঈসা আ.
আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা কে ছিল?
আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা – মুসলিম উম্মাহর মাঝে সর্বপ্রথম ভুল আকিদা ও বিতর্কিত মতাদর্শের বীজ রোপণ করে একজন ইহুদী। যাকে ইতিহাসের পাতায় আব্দুল্লাহ ইবনে সা’বা নামে উল্লেখ করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ছিল ইহুদী বংশের একজন ব্যক্তি। নিজের সুবিধার জন্য সে মুসলিম বলে পরিচয় দিত জনগণের সামনে। তার উঠাবসা ছিল সে
জীবনের হিসাব নিকাশ
জীবনের হিসাব নিকাশ – মানুষের একটা সময় কোনো অস্তিত্ব থাকে না। সে জন্ম নেয় মায়ের গর্ভ থেকে। দুনিয়ার আলো দেখতে পায়। দেখতে পায় ফোটন কণার বিচ্ছুরণ। সে বুঝতে শিখে, পৃথিবী কোনো আরাম আয়েশের জায়গা নয়। এখানে প্রতিটা মূহুর্ত লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। হয় নিজের সাথে, অন্যথায় নিজের নফসের সাথে। নবী সাল্লাল্লাহু
সর্বশেষ প্রকাশিত
মানুষ বাঁচে অন্যের জন্য
মানুষ বাঁচে অন্যের জন্য, অন্যের ভরসায়। দুনিয়াতে মায়া মানুষকে আবদ্ধ করে রাখে সম্পর্কে, বন্ধনে, পরিবারে। একজন স্বামী কেন তার স্ত্রীর আজীবনের সুখ দুঃখের সাথী হয়? কিসের লোভে? মায়া, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ। সন্তানকে কেন পিতা-মাতা নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন? এখানেও একই কথা। মায়ার জন্য। দুনিয়ার এই সম্পর্ক সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহর তৈরি করে দেওয়া নেযাম। আল্লাহ মানুষকে এমনি এমনি সৃষ্টি করেন নি। মানব সৃষ্টির পেছনে আল্লাহর অনেক বড় উদ্দেশ্য আছে। কুরআনে আল্লাহ
ডলারময় বিশ্বব্যবস্থার অশনি সংকেত
ডলারময় বিশ্বব্যবস্থার অশনি সংকেত – ২০০১ এর হঠাৎ করেই যখন টুইন টাওয়ারে হামলা হলো তখন এই হামলার পরিকল্পনাকারী উসামা বিন লাদেন বলেছিলেন, “এটা আমেরিকার পতনের সূচনাকাল। আমেরিকান পতন অনিবার্য।” কয়েক দশক আগে এই সমর বিশারদের এই উক্তিটি বোঝে না আসলেও এখন এটি পানির মতো পরিষ্কার। ১৯৭১ সালে আমেরিকার নিক্সন সরকারের হাত ধরে স্বর্ণমুদ্রার পতন হয়। এরপর থেকে শুরু হয় ডলারের রাজত্ব। ডলারকে টিকিয়ে রাখার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোর অবদান (!)
যুগসন্ধির সময়কালে আমাদের করণীয়
যুগসন্ধির সময়কালে আমাদের করণীয় – “সত্য সমাদৃত, মিথ্যা ধুলিৎসাত হবে। মিথ্যা তো ধ্বংসের জন্যই”, সূরা বনী ইসরাইলের এই আয়াতটা একজন চক্ষ্মুষ্মান ঈমানদারের চোখ খুলে দেয়। মহান আল্লাহ আমাদের জন্য হেদায়াতের পথ দেখিয়ে কত বড় উপকার করেছেন! আল্লাহর জন্য বান্দার হেদায়েতের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই, বান্দারই জরুরি আল্লাহর হেদায়েত। আল্লাহ চান, আমরা ভুল করি, আবার ক্ষমা চাই। আমরা আবার ফিরে আসি রবের নিকট। যদি মানুষ এমন হতো যে, কোনো ভুল করে না,
লাশের চেয়েও মেট্রোরেল দামী : লাশের চেয়েও ভবন দামী!
লাশের চেয়েও মেট্রোরেল দামী : লাশের চেয়েও ভবন দামী! – ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান। দেশের আকাশে ছিল কালো মেঘের ঘনাঘটা। পরবর্তী ভবিষ্যদ্বানী দুইটার যেকোনো একটা হওয়ার কথা ছিল। এক, এই মেঘ কেঁটে যাবে এবং নতুন প্রভাত আলো ছড়াবে। দুই, কালবৈশাখী নেমে তছনছ করে দিবে সব। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রথমটাই ঘটলো। এর জন্য নিজের জান কুরবানী দিতে হয়েছে শত শত ব্যক্তিকে। পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে হাজারো ব্যক্তিকে। স্বাধীনতার নতুন
আমরা ভালো মুসলিম
আমরা ভালো মুসলিম – ব্যস্ততম শহরের পরতে পরতে মিশে আছে রক্ত ঝরানো ঘাম, পাখিদের কিচির-মিচির এবং মানুষের কোলাহল। সকলেই আশেপাশে থাকলেও মনে হয় যেন কোথাও কেউ নেই। নিস্তব্ধ, নীরব শহর। শহুরে পরিবারের ছোট্ট মেয়ে তাসফিয়া। সবেমাত্র ক্লাস ফাইভ পেরিয়েছে। পেটের দায়ে বাবা-মা দুইজনই কর্মক্ষেত্রে থাকেন সারাদিন। ছোট্ট তাসফিয়া বড়ো হচ্ছে দাদির কাছে। একাকী, নিঃসঙ্গভাবে। সারাদিন কাজ করে এসে সন্ধ্যার পর আর মেয়েকে সাথে নিয়ে গল্প করা হয় না তাশফিয়ার বাবা-মায়ের।
আধুনিক কুফর-শিরক
আধুনিক কুফর-শিরক – যুগ যত আধুনিক হচ্ছে, মানুষ বাহ্যিকভাবে ততই অগ্রসর হচ্ছে। তারা দুনিয়াবী শিক্ষার ক্ষেত্রে, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তির ক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রসর। কিন্তু স্বেচ্ছায় পিছিয়ে পড়ছে একটি স্থান থেকে। ঈমান। মানুষের নিকট এখন দ্বীন হলো, ইচ্ছাধিকার। মন চাইলে দ্বীন মানবে, মন না চাইলে দ্বীন মানবে না। কোনো পেরেশানি নেই, কোনো আগ্রহ নেই। যারা খানিকটা প্রাকটিসিং মুসলিম, তারাও কখনো কখনো দ্বীনী বিধানাবলীর সামনে এসে হোঁচট খায়। “অমুক বিধানটি এত কঠিন কেন?”
বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ প্রবেশের চেষ্টা
বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ প্রবেশের চেষ্টা – ট্রান্সজেন্ডার বা ইচ্ছানুপাতিক জেন্ডার পরিবর্তন। পূর্বে একটা সময় ছিল, যখন মানুষ বিভিন্ন ডাক্তারি থেরাপির মাধ্যমে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলে থেকে মেয়ে বা মেয়ে থেকে ছেলে হতো। কিন্তু সমাজ এখন আরো আপডেট (!)। এখন আর চিকিৎসা লাগে না। কেউ যদি নিজেকে মেয়ে মনে করে বা ছেলে মনে করে তাহলেই সে মেয়ে বা ছেয়ে হয়ে যাবে। সামাজিক এমন অধঃপতন চিন্তাধারা এতদিন ইউরোপ-আমেরিকাতে ছিল। সেই চিন্তাধারা
ভালোবাসা দিবস নিয়ে কিছু কথা
ভালোবাসা দিবস নিয়ে কিছু কথা – ইংরেজ ও পশ্চিমাদের একটা বিখ্যাত থিউরি আছে, ডিভাইড এন্ড রুলস। তথা ভাগ করো এবং শাসন করো। এখানে শাসন করা মানে অনেক কিছুই হতে পারে। রাজ্য শাসন করা, দেশ শাসন করা, মন-মস্তিষ্ক শাসন করা, অনুভূতি শাসন করা ইত্যাদি। প্রথম দুইটি উদাহরণ যতটা সহজে বুঝা যায়, শেষ দুইটি উদাহরণ বুঝতে ততটাই বেগ পেতে হবে। একটু অন্যদিক থেকে আসি। ইংরেজদের শাসনামলে বাংলায় অনেক জমিদার ছিল। তাদের বেশিরভাগ
ফেমিনিজম কি
নারীবাদ বা ফেমিনিজম কি এটি নিয়ে আমাদের মুসলিম সমাজে অনেকটা সংশয় এবং খাপছাড়া মনোভাব আছে। কেউ মনে করেন, পশ্চিমা নারীবাদ বা ফেমিনিজম যদিও ইসলাম সমর্থন করে না, এরপরও এটাকে যদি ইসলামের ধারাতে কনভার্ট করা যায়, তাহলে আর মন্দ কি! বর্তমান সমাজে এই নারীবাদ বা ফেমিনিজম এতটাই মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, অনেক দ্বীনদার তরুণী কিংবা প্রাকটিসিং মুসলিম নারীরাও এই ফিতনার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা এই ফেমিনিজম কি এবং এটা কোথা থেকে শুরু,
নারীর ফাঁদ কতটা ভয়ঙ্কর
নারীর ফাঁদ কতটা ভয়ঙ্কর – সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ নারীদের দুর্বল প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাই কখনো কখনো ইচ্ছায় আবার কখনো অনিচ্ছায় তারা পুরুষদেরকে ফিতনার মধ্যে ফেলে দেন। নারীর ফাঁদ ও শয়তানের ফাঁদের মধ্যে নারীঘটিত ফাঁদকেই কুরআন বড় হিসেবে বর্ণনা করেছে। সাধারণত নারীরা বাহ্যিকভাবে কোমল, নাজুক ও অবলা হয়ে থাকে। এর ফলে তাদের কথা ও অঙ্গভঙ্গিমায় দ্রুত পুরুষরা তাদের বিশ্বাস করে ফেলে। কিন্তু অভ্যাসের কারণে সেটি তাদের ছলনা হিসেবেই ধরা যায়।
ভয়াবহ ফিতনা এবং মুসলমানদের করণীয়
ফিতনা হলো পরীক্ষা। চলাচলের রাস্তায় উৎ পেতে থাকা ফাঁদ। পৃথিবীতে রয়েছে ভয়াবহ ফিতনা এবং বিপদের ছড়াছড়ি। সম্পদের ফিতনা, অভাবের ফিতনা, নাম না জানা কত ফিতনা আছে, তার কোনো হিসাব নেই। ফেতনার এই মূহুর্তে মুসলমানদের করণীয় কি, সেটি একজন মুসলমানের জানা উচিৎ। নবীজি সা. পৃথিবীর এত লাখো লাখো ফিতনার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফিতনা বলে আখ্যা দিয়েছেন নারীঘটিত ফিতনাকে। সহীহ বুখারীর ৫০৯৬ নং হাদীসে নবীজি সা. ইরশাদ করেন, হাদীসটি হযরত উসামা ইবনে
বাংলাদেশে সমকামিতা মতাদর্শ বিস্তার
বাংলাদেশে সমকামিতা মতাদর্শ বিস্তার – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের সময় থেকেই পৃথিবীতে আস্তে আস্তে নতুন নতুন কিছু ফিতনা আমদানি করা শুরু হয়। যেসব ফিতনা প্রাচীনকালে পৃথিবীতে থাকাবস্থায় স্রষ্টার পক্ষ হতে ধ্বংস নেমে এসেছিল। তারপরও এসব ফিতনা ছড়ানো শুরু হলে এর সাথে সাথে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু, ভাইরাসও পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। গত ৯০ দশকের সময়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং রোল মডেল দেশগুলো এইডস রোগকে পৃথিবীর জন্য হুমকি স্বরুপ হিসেবে চিহ্নিত করে। এইডস
প্রকৃত সুখ কী
“সাম্যতা বা সমতা। এটি থাকার মধ্যেই প্রকৃত সুখ রয়েছে” এমনটাই বলে থাকে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ভাইয়েরা। সকলেই কেন একরকম নয়, এটা ভেবে অনেকেই আক্ষেপ করেন। কেউ কেউ স্রষ্টার প্রতি অভিযোগও তোলেন যে, কেন আল্লাহ কাউকে গরিব বা কাউকে ধনী বানায়? কেন সকলকে একরকম সম্পদ দেয় না? আল্লাহ তা’আলা সূরা আসরের ১-৩ নং আয়াতে বলেন, وَ الۡعَصۡرِ ۙ اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَفِیۡ خُسۡرٍ ۙ اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ تَوَاصَوۡا بِالۡحَقِّ
মিথ্যা বলার শাস্তি
মিথ্যা বলার শাস্তি – দরসে কুরআনে আজ আমাদের শায়েখ সূরা তূর নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কুরআনী তাদাব্বুর তথা বুঝ না থাকার কারণে সারা জীবন এই সূরা কতবার পড়েছি, কিন্তু একবারও অর্থ বুঝি নি। আজ বারবার দরসে বসে মনে হচ্ছিল, আল্লাহ এমন কথা বলেছেন অথচ আমি এই সম্পর্কে অজ্ঞ! এটা চিরসত্য যে, কুরআনী তাদাব্বুর একদিনে তৈরি হয় না। আবার শুধুমাত্র বঙ্গানুবাদ দেখে তেলওয়াত করলেও তাদাব্বুর এতটা অর্জিত হয় না। মূল আরবি থেকে
আহনাফ বিন কায়েস – আমার কথাও কুরআনে আছে!
আহনাফ বিন কায়েস নামক একজন আরব সর্দারের কথা বলছি। তিনি ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা। তার সাহস ও শৌর্য ছিলো অপরিসীম। তার তলোয়ারে ছিলো লক্ষ যোদ্ধার জোর। ইসলাম গ্রহণ করার পর আল্লাহর নবী (সাঃ)-কে দেখার সৌভাগ্য তার হয়নি, তবে নবীর বহু সাথীকেই তিনি দেখেছেন। এদের মধ্যে হযরত আলীর (রাঃ) প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিলো অপরিসীম। একদিন তার সামনে এক ব্যক্তি কোরআনের এই আয়াতটি পড়লেন, لَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکُمۡ کِتٰبًا فِیۡهِ ذِکۡرُکُمۡ ؕ اَفَلَا
ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি
ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি – আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম। আর শাসনব্যবস্থা চলবে আল্লাহর আদেশে এবং নবীজি ﷺ এর অনুসরণে, অনুকরণে। মক্কায় ১৩ বছর আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ ﷺ দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ১০ বছর মদিনায় থাকাকালীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। যে-ই রাষ্ট্র ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র। আল্লাহ সরাসরি আয়াত নাজিল করে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের নীতিমালা ঠিক করে দিয়েছেন। নবীজি ﷺ এর মৃত্যুর পর সাহাবায়ে
নামাজ কি অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে?
নামাজ কি অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে? ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর অন্যতম একটি হলো সালাত তথা নামাজ। যাকে বলা হয়, ঈমান আনয়নের পর দ্বিতীয় ফরজ। হাদীস শরীফে রয়েছে, عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
ঈদের দিন করনীয় ও বর্জনীয়
ঈদের দিন করনীয় ও বর্জনীয় – কয়েক মাস ঘুরতে না ঘুরতেই হাজির হলো আবার ঈদ। ঈদ হলো, মুসলিমদের জন্য স্রষ্টা প্রদত্ত আনন্দের দিন। মাসখানেক আগেই আমাদের সামনে দিয়ে অতিবাহিত হয়েছিল ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই রমজানের পর আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছিলেন ঈদ। এখন আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি হলো কুরবানীর ঈদ। কুরবানী কেন ফরজ করা হয়েছে? মানুষ স্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত। স্রষ্টা আমাদের যেই আদেশ করেছেন, সেটা পালন করা আমরা

মীর মাসজিদি খান: ভুলে যাওয়া এক আফগান বীর
আফগান ইতিহাসে মীর মাসজিদি খান ছিলেন একজন কিংবদন্তি, একজন বীর-বাহাদুর। মৃত্যুর দেড়শত বছরের অধিক সময় পার হলেও এখনও মানুষ তাকে স্মরণ করে। আফগান এবং পাকিস্তান সীমান্ত এলাকার মানুষের মুখে মুখে এখনও তার বীরত্বগাথা গল্পগুলো শোনা যায়। আফগানের আমেরিকাপন্থী শাসক আশরাপ গণী সরকারের শাসনামলে ‘মীর মাসজিদি খান পুরস্কার’ নামে একটি পুরস্কার সে চালু করেছিল। যেগুলো সে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, খেলোয়াড় এবং উচ্চশ্রেণীর ব্যক্তিদের প্রদান করেছে। তবে আমরা মনে করি, আফগান জনগণ

ইয়াহইয়া সিনওয়ার রহ. এর জীবনী
ইয়াহইয়া সিনওয়ার ১৯ অক্টোবর, ১৯৬২ সালে দক্ষিণ গাযা উপত্যকার খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার শৈশব পার করেছেন শরণার্থী ক্যাম্পের কষ্ট এবং দখলদার ইসরাইলের বারবার আক্রমণের মধ্যে। সময়টা ছিল খুবই কঠিন। তিনি গাযার ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে আরবি স্টাডিজ বিভাগে বিএ পাস করেন। ২১ নভেম্বর, ২০১১ এ ইয়াহইয়া সিনওয়ার বিয়ে করেন এবং ইব্রাহিম নামে তার একজন ছেলে রয়েছে। পাকা রাজনীতিবিদ ইয়াহইয়া সিনওয়ার ইসলামিক দলের সক্রিয়

নেই আর ইসমাইল হানিয়া
নেই আর ইসমাইল হানিয়া – সকালে আজকে একটি সংবাদ দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। কল্পনাও করতে পারি নি। প্রথমে ভেবেছিলাম বানোয়াট। পরে নির্ভরযোগ্য সোর্সগুলো ঘেঁটে দেখলাম, আসলেই ঘটেছে। মহান মুজাহিদ নেতা হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ভাই ইসমাইল হানিয়া শহীদ হয়েছেন । তিনি শহীদ হয়েছেন গাজ্জার বাহিরে। ইরানের রাজধানী তেহরানে। প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে ১২০ মিটার দূরত্বে থাকা একটি বাড়িতে তিনি অবস্থান করছিলেন। এখানে সম্ভবত ড্রোন অথবা মিসাইল দিয়ে হামলা করা হয়। হানিয়া

শায়খ আহমেদ ইয়াসিন জীবনী
হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমেদ ইয়াসিন রহ. ছিলেন একজন বীর মুজাহিদ এবং স্বাধীনকামী ফিলিস্তিনিদের স্বপ্নের ব্যক্তিত্ব। তিনি মানুষকে জিহাদের দিকে উদ্ভুদ্ধ করতেন। প্রাথমিক জীবনে ওয়ায়েজ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে ওয়াজ-নসীহত করতেন। যুবকদেরকে সৎপথে আহবান করতেন। সাধারণ মানুষের শিক্ষা-দীক্ষার দিকে ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান করতেন। তিনি গাযা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এই মহান মুজাহিদ ফিলিস্তিন জিহাদের একটি রূপরেখা তুলে ধরে বলেছিলেন, ইনশাল্লাহ অচিরেই ইসরাইল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ,

ইজ্জউদ্দিন আল কাসসাম জীবনী
শায়েখ ইজ্জউদ্দিন আল কাসসাম কিংবা ইজ্জতউদ্দিন আল-কাসসাম রহ. ছিলেন বিংশ শতাব্দির একজন মুজাহিদ ও সমাজ সংস্করক। তিনি একাধারে ফরাসি এবং ইংরেজদের উপনিবেশিকতা ও জায়নিস্ট ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন এবং মানুষকে জিহাদে উজ্জীবিত করেছিলেন। জিহাদের ময়দানে তার অবিচলতা, উম্মাহর প্রতি দরদ থেকে কুফরি শক্তির নিকট একটা সময় আতঙ্কে পরিণত হন। তিনি লিবিয়া, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র জিহাদের জন্য আর্থিক অনুদান, জনসমর্থন ও সুযোগে ময়দানে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। শায়েখ ইজ্জতউদ্দিন আল কাসসাম রহ.

হযরত উসমান রাঃ এর জীবনী
নবীজির অন্যতম সাহাবী এবং উমর রাঃ এর মৃত্যুর পর নির্বাচিত হওয়া আমিরুল মুমিনীন হযরত উসমান রাঃ এর জন্ম হয় আরবের তায়েফ শহরে। তিনি “আ’মুল ফীল” তথা হস্তিবর্ষের ছয় বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। সেই মোতাবেক তিনি নবীজির পাঁচ বছরের ছোট ছিলেন। হযরত উসমান রাঃ এর পিতার নাম হলো, আফফান। এরপরের পূর্বপুরুষদের নাম যথাক্রমে দেয়া হচ্ছে এভাবে যে, উসমান বিন আফফান বিন আবুল আস বিন আবদুশ শামস বিন আবদুল মানাফ বিন কুসাই